আন্তর্জাতিক

পিয়াজ রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলো ভারত

  প্রতিনিধি ২৩ মার্চ ২০২৪ , ১০:৩৩:৫১

Spread the love

পিয়াজ রপ্তানিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত। গতকাল কেন্দ্রীয় সরকার থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত বছর ডিসেম্বরে পিয়াজ রপ্তানিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছিল ৩১শে মার্চ পর্যন্ত। শনিবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ আসার আগ পর্যন্ত স্থগিত থাকবে রপ্তানি। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। ভারতের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে পিয়াজের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দেশে নতুন পিয়াজ বাজারে এসেছে। তাই দাম না-ও বাড়তে পারে।

মুম্বাইভিত্তিক একটি পিয়াজ রপ্তানি সংস্থার কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এই আদেশ হতবুদ্ধিকর এবং পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়। এমনিতেই দেশের অভ্যন্তরে পিয়াজ এখন পানির দামে বিক্রি হচ্ছে, তার ওপর আর কিছুদিন পর নতুন ফসল আসবে।

তখন কী হবে? ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রকে বলা হয় পিয়াজের রাজধানী। দেশটির পিয়াজের মোট চাহিদার বড় অংশই আসে এ রাজ্যটি থেকে।
রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা জানান, ডিসেম্বরে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আগ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের পাইকারি বাজারগুলোতে প্রতি ১০০ কেজি পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ রুপিতে। নিষেধাজ্ঞার পর থেকে পিয়াজের দাম কমতে শুরু করে এবং বর্তমানে বাজারগুলোতে প্রতি ১০০ কেজি পিয়াজের পাইকারি মূল্য নেমেছে ১ হাজার ২০০ রুপিতে। রপ্তানিতে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আসায় সামনের দিনগুলোতে দাম আরও নেমে যাবে।

প্রসঙ্গত, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পিয়াজ রপ্তানিকারী দেশ। বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতীয় পিয়াজের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশেও রপ্তানি হয় ভারতীয় পিয়াজ।
ডিসেম্বরে ভারত পিয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর থেকে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে পিয়াজের দামে ধস নামলেও বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে হু হু করে। বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা দরে। কয়েকদিন আগে এই দর ১২০ টাকা ছুঁয়েছিল।

ভারতের কৃষিপণ্য রপ্তানি সংক্রান্ত সরকারি সংস্থা হর্টিকালচার এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের (হেপা) প্রেসিডেন্ট অজিত শাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পিয়াজের দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়। প্রতি বছরেই মার্চ-এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে পিয়াজের ঘাটতি দেখা দেয়। এতদিন ভারতীয় পিয়াজ এই ঘাটতি সামাল দিতো। সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে এ বছরের তিন মাসে বাজারে ভারতীয় পিয়াজ পৌঁছায়নি, সেজন্যই এ ঘাটতি। তবে মে মাসে মিশর-তুরস্ক থেকে পিয়াজের চালান আসা শুরু হবে। সে সময় দামও স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে।

এদিকে বাংলাদেশের বাজারেও পিয়াজের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এর আগে ভারত সরকার পিয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তখন বাংলাদেশের বাজারে হু হু করে দাম বেড়েছিল। আবারো রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করায় দেশে পিয়াজের দাম বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। তবে কেউ কেউ মনে করেন বাংলাদেশে এখন নতুন পিয়াজ বাজারে চলে এসেছে। তাই দাম না-ও বাড়তে পারে।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বাজারে ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া পিয়াজের দাম কমেছে। ধরন ভেদে রাজধানীতে প্রতিকেজি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। তবে এখন পিয়াজ উঠানোর মৌসুম। ফলে দাম না-ও বাড়তে পারে।

আরও খবর

Sponsered content