জাতীয়

সরকারি বাহিনীর হাতে রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে যাওয়া একটি অসহায় পরিবার

  প্রতিনিধি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ২:০৩:১৭

Spread the love

গত ১২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর লালবাগের খাজা দেওয়ান সিং লেনের বাসা থেকে ব্যক্তিগত কাজে বের হন ফারুক হোসেন। এক ঘণ্টা পর তিনি তার স্ত্রী হ্যাপীকে ফোন দিয়ে জানান, তাকে সন্দেহজনকভাবে কায়েতটুলী ফাঁড়ির কয়েকজন পুলিশ আটকে রেখে নির্যাতন করছে। এই খবর পেয়ে দুই বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে হ্যাপী সেখানে ছুটে যান। গিয়ে দেখেন, ফারুককে পুলিশ সদস্যরা মারধর করে আটকে রেখেছে।

হ্যাপী সেখানে উপস্থিত এসআই ইমদাদুল হক, মাসুদ রানা, বুলবুল আহমেদসহ অন্যদের পা ধরে তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানান। তখন ইমদাদুল হক তাকে বলেন, ফারুক অনেক বড় ক্রিমিনাল। তাদের গালিগালাজ করেছে। এমনিতে ছাড়া যাবে না। ওকে ছাড়তে হলে এক লাখ টাকা লাগবে।

নি.হ.ত বডিবিল্ডার ফারুকের স্ত্রী হ্যাপী জানান, তার স্বামী সিটি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শোয়েবের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী। আগে বডি বিল্ডার ছিলেন, মিস্টার বাংলাদেশ হয়েছিলেন। তিনটি ছোট সন্তান, ফারুকের ইনকামেই সংসার চলে। তাকে ছেড়ে দিন। পরে এক লাখ থেকে কমিয়ে তারা ৫০ হাজার টাকা দাবি করে পুলিশ সদস্যরা। সঙ্গে তাকে অশা.লী.ন প্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা ফারুককে ব্যাপক মা.র.ধ.র করে। তারা কিছু করতে পারবে না। তাদের বড় স্যার জানেন কী করবেন। এর কিছুক্ষণ পর ফারুককে মোটর সাইকেলে করে বংশাল থানার দিকে নিয়ে যায়।

আবেদনে আরও বলা হয়, হ্যাপী তখন মাইনুল হোসেনের হাত-পা ধরে আকুতি মিনতি করে স্বামীকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয় না। তারা তাকে পরদিন সিএমএম আদালতে যোগাযোগ করতে বলেন।

পরদিন হ্যাপী কোর্টে যান স্বামীর খবর নিতে। সেখানে অনেক কষ্টে স্বামীর সাক্ষাৎ পান। স্ত্রীকে মারধরের কথা জানান ফারুক। তার কিছু হলে আদালতে বিচার চাইতে বলেন। ফারুকের বিরুদ্ধে ১৫০ গ্রাম গাঁ..জার মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারেন হ্যাপী। এদিন বিকাল ৫-৬টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে যান।

১৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এক ব্যক্তি হ্যাপীকে জানান, ফারুক মা.রা গেছেন। হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তিনি স্বামীর লা.শ দেখতে পান। ফারুকের গলায়, বুকে, পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান।

আরও খবর

Sponsered content