রাজনীতি

বিএনপি’র সরকার পতন আন্দোলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

  প্রতিনিধি ১৬ আগস্ট ২০২৩ , ১২:১৮:০৯

Spread the love

সরকার পতনের একদফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আগামী শুক্রবার ঢাকাসহ সকল মহানগরে গণমিছিল করবে দলটি। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আগামী ১৭ ও ১৯শে আগস্ট এ কর্মসূচি পালন করবেন নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি চেয়ে আজ ঢাকাসহ সারা দেশে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে বিএনপি। সোমবার রাতে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, অবৈধ লুটেরা, ফ্যাসিবাদী সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে আগামী ১৮ই আগস্ট শুক্রবার যুগপৎ আন্দোলনের ধারায় ঢাকা মহানগরসহ সকল মহানগরে গণমিছিলের কর্মসূচি পালন করা হবে। যুগপৎ ধারায় অন্যান্য জোট ও দলগুলো এই কর্মসূচি নিজ নিজ অবস্থান থেকে পালন করবেন। রিজভী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য ১৬ই আগস্ট (আজ) দোয়া মাহফিল হবে। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে আগামীকাল ১৭ই আগস্ট বৃহস্পতিবার সারা দেশে লিফলেট বিতরণ ও ১৯শে আগস্ট শনিবার সকল মহানগর ও জেলা পর্যায়ে পদযাত্রার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর নয়াপল্টনের সামনে থেকে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহ্বায়ক আবদুস সালাম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন, মীর সরাফত আলী সপু, নাসির উদ্দিন অসীম, রফিকুল ইসলাম বকুল ও আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে একদফা দাবিতে ঢাকায় গণমিছিল করে দুই মহানগর বিএনপি। গত ২২শে জুলাই বিএনপি সহ সমমনা জোটগুলো যুগপৎভাবে একদফার ঘোষণা দেয়। এদিকে সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া আগামী ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল সভায় অংশ নেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় নীতিনির্ধারণী ফোরাম। একই সঙ্গে একদফার আন্দোলন গতিশীল করতে আবারো উদ্যোগ নিচ্ছেন নেতারা। আগামী ১লা সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের মধ্যদিয়ে শিগগিরই রাজপথে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে চায় বিএনপি। এজন্য দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো বিবেচনা করে নতুন করে কর্মসূচি সাজাচ্ছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। বিএনপি’র একজন শীর্ষ নেতা বলেন, বিগত সময়ে বিএনপি’র কর্মসূচিগুলোতে জনসম্পৃক্ততা বেড়েছে। গত ২৯শে জুলাইয়ের কর্মসূচি অপ্রত্যাশিত হলেও আগামীর কর্মসূচিগুলো হবে ভিন্ন ধাঁচের। লাগাতার কর্মসূচির কথাও ভাবছে বিএনপি।

আরও খবর

Sponsered content