সারাদেশ

জুলাইয়ের ৮ দিনে চার হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যু ২০

  প্রতিনিধি ৮ জুলাই ২০২৩ , ২:৪৭:৫৭

Spread the love

এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ক্রমেই মারাত্মক আকার ধারণ করছে। চলতি জুলাইয়ের প্রথম আট দিনে এই রোগের প্রকোপ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। চলতি মাসের এই কয়েক দিনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের।

শনিবার (৮ জুন) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত আট দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চার হাজার ১৪০ জন। আর মারা গেছেন ২০ জন।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি বছরে সর্বোচ্চ। এই সময়ে নতুন করে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ১১৮ জন। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ জনে।

 

গত জুন মাসে পাঁচ হাজার ৯৫৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর মারা গেছেন ৩৪ জন। সে হিসেবে চলতি মাসের প্রথম আট দিনেই গত মাসের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে।

চলতি জুলাইয়ের প্রথম দিন আক্রান্ত হন ২৭০ জন, মারা যান তিনজন। ২ জুলাই আক্রান্ত হন ৫০৯ জন আর মারা যান দুইজন। ৩ জুলাই আক্রান্ত ৪৩৬ জন আর মৃত্যু চারজন। ৪ জুলাই আক্রান্ত ৬৭৮ এবং মৃত্যু পাঁচজন। ৫ জুলাই আক্রান্ত ৫৮৪ এবং মৃত্যু একজন। ৬ জুলাই আক্রান্ত ৬৬১ জন আর মৃত্যু দুইজন। ৭ জুলাই আক্রান্ত ১৮২ জন এবং মৃত্যু একজন। আর শনিবার (৮ জুলাই) আক্রান্ত হয়েছেন রেকর্ড ৮২০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে দুইজনের।

 

চলতি মাসের প্রথম আট দিনেই যেভাবেই ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ হবে। আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এজন্য তারা জরুরি ভিত্তিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।

 

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন সামনের দিনগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন। এজন্য তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

গত কয়েক দিন ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার জানান, ঈদের ছুটি থাকার কারণে বিভিন্ন বাসা বাড়ি, অফিস আদালত বন্ধ ছিল। বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে এসব অফিস আদালত এবং বাসা বাড়ির বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমা হয়েছে। এসব স্থানে এডিস মশার নিরবচ্ছিন্ন বিস্তার হচ্ছে। এ কারণেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে।