জাতীয়

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে-প্রধানমন্ত্রী

  প্রতিনিধি ২২ জুন ২০২৩ , ১০:৪৩:৩৫

Spread the love

যারা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাদের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দেখার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, আজকে যারাই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে তাদের বলবো, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন যাতে স্বচ্ছ হয়, নির্বাচনে মানুষ যাতে ভোট দিতে পারে সেভাবে আমরা যে ব্যবস্থা করতে পারি, সেটা কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি। কাজেই এটা নিয়ে আর কারো কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। যে সমস্ত দেশ আমাদের নির্বাচনের দিকে শ্যেনদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন, তাদেরকেও বলবো, আমাদের যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন বা আমাদের উপনির্বাচগুলো যে হলো সেই নির্বাচনগুলো দেখেন! যে কীভাবে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। এর পরে আবার কেন প্রশ্ন ওঠে। আজ সকালে গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শুরুর আগে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সেই সন্ত্রাসী সংগঠন আজকে আন্দোলন করে, আজকে তারা আমাদের ভোট চোরও বলে। আওয়ামী লীগের ভোট চুরি করা লাগে না। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোট পায় আওয়ামী লীগের কাজের মধ্য দিয়ে, জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জনের মধ্য দিয়ে। আওয়ামী লীগকে যতবার হারানো হয়েছে ততবার একটা চক্রান্ত করেই হারানো হয়েছে। বরং জনগণের ভোট ডাকাতি করে নিয়ে আওয়ামী লীগকে ভোট পেতে দেয়নি বা সিট পেতে দেয়নি বা আওয়ামী লীগকে হারানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

 

যখনই এ দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তখনই কিন্তু আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। তার প্রমাণ ২০০৮ সালের নির্বাচনে; এটাও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন ছিল। আর সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারে বিএনপির সবচেয়ে আপনজনই ছিল। ইয়াজউদ্দিন সাহেব বিএনপির উপদেষ্টা, তিনি হলেন রাষ্ট্রপতি। ফখরুদ্দীন সাহেবকে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে নিয়ে এসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হলো সব থেকে বেশি প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিল বিএনপির। খালেদা জিয়া বা সাইফুর রহমানের তিনি ছিলেন উপদেষ্টা। সেনাবাহিনীর ৯ জনকে ডিঙ্গিয়ে মঈনকে করা হয়েছিল সেনাপ্রধান। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যখন নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট বা আমরা মহাজোট করেছিলাম, আমরা জয় লাভ করলাম। আর বিএনপির নেতৃত্বে ৪ দলীয় জোট পেয়েছিল মাত্র ২৯টি সিট। আর পরে আরেকটি সিট, এই মোট ৩০টি সিট পেয়েছিল। এটা ছিল বিএনপির প্রকৃত অবস্থা। কাজেই এই কথাগুলো আমার মনে হয় সবার মনে রাখা উচিত যে, সন্ত্রাসী বিএনপিকে কেউ ভোট দেয়নি। যে জন্য ২০১৪ সালে তারা নির্বাচন করেইনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি। জনগণকে সচেতন করেছি; “আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো” এটা আওয়ামী লীগের স্লোগান। আমরা এই স্লোগান মাঠে নিয়ে মানুষকে সচেতন করেছি। আগে তো মানুষের মধ্যে এই সচেতনতাই ছিল না। ভুলেই গিয়েছিল মানুষ। সেটা আওয়ামী লীগই ফিরিয়ে এনেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা মানবাধিকারে বিশ্বাস করি। আজকে যদি মানবাধিকারে বিশ্বাস না করতাম তাহলে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আমরা এভাবে আশ্রয় দিতাম না। অনেক দেশই দেয়নি। যখন আশ্রয় দিয়েছি, কয়টা দেশ এসেছে? সারা বাংলাদেশ থেকে আমাদের নেতাকর্মীরা, সাধারণ মানুষ খাবার-দাবার নিয়ে এসেছে। আমরা কখনো মানবাধিকার লঙ্ঘন না, মানবাধিকার সুরক্ষা করেছি বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি

আরও খবর

Sponsered content